বার্তা সংস্থা আবনা : শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাভার এনাম হাসপাতালে ৪০ জনের মৃতদেহ রয়েছে। অন্যান্য ক্লিনিক ও হাসপাতালেও রয়েছে মৃতদেহ। এছাড়া ৭৫০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধসে পড়া ভবনটির নিচে পাঁচ হাজারের অধিক লোক চাপা পড়ে আছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনদের অপেক্ষা আর আহাজারিতে সাভারের আকাশ-বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠেছে। শোকে মূহ্যমান গোটা সাভার ও দেশবাসী। আজ বুধবার সকাল ৯টায় সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ‘রানা পাজা’ নামের একটি ৯ তলা ভবন ধ্বসে পড়ে। ভবনটি ধসে আশপাশের ৪-৫টি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধসে পড়ার সময় ভবনের ভেতরে কমপক্ষে পাঁচ হাজার শ্রমিক ছিল। এদের বেশিরভাগই ভেতরে আটকা পড়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। ফায়ার ব্রিগেড কর্মী, সেনাবাহিনী, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বিভিন্ন সরকারী-আধাসরকারী বাহিনীসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার ট্রাজেডিতে শোক জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আহতদের সূচিকিত্সার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও এ হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাভার এলাকাকে ১৮ দলের ডাকা দ্বিতীয় দিনের হরতালের আওতামুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এক সংবাদ সম্মলন করে ঢাকা মহানগর ও জেলার হরতাল পত্যাহার করে বিএনপি। এ ঘটনায় খালেদা জিয়া উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার তত্পরতা ও আহতদের সূচিকিত্সার দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সূত্র জানায়। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন বলে জানায়। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি উদ্ধার তত্পরতা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভবন ধসে নিহতের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক আহতদের চিকিত্সার খোঁজ নিতে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বহুতল এ ভবনে ফাটল দেখা দেয়। ভবনটির মালিক সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা। ভবনে চারটি গার্মেন্টসহ বহু প্রতিষ্ঠান ছিল। ভবনে ফাটল দেখা দিলে আতঙ্কে ওই ভবনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকালে ভবন থেকে মালামাল সরাতে যায় দোকান ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এছাড়া সকালে ভবনের চারটি পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হলে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেন। তবে বেঁচে যাওয়া অনেক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেছে, ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় তারা কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেন। অনেকে কাজে যোগদানে অপরগতা জানান। কিন্তু গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নানা ভয়ভীতি এমনকি বেতন কর্তনের ভয় দেখিয়ে কাজে যোগদান করান। ধসে পড়া ভবন্িটর তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ তলায় প্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেড, পঞ্চম তলায় প্যান্টম ট্যাক লিমিটেড ও ষষ্ঠ তলায় ঈথার টেক্সটাইল লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা। দ্বিতীয় তলায় ছিল বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের সাভার শাখা। নয় তলা ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার, প্রসাধনী সামগ্রী ও কাপড়ের মার্কেট। গতকাল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ৩য় তলার নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড কারখানার ভিতরের পিলারে ফাঁটল দেখা দেয়। ভবনটিতে থাকা শুধুমাত্র চারটি কারখানায় সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা গেছে।
২৩ এপ্রিল ২০১৩ - ১৯:৩০
News ID: 412674
সাভারজুড়ে এখন শুধুই আহাজারি আর আহাজারি। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কেবলই লাশের সারি। জীবিত আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়াদেরও অনেকেই মারা গেছেন। বেড়েই চলছে মৃতের সংখ্যা।